Monday, 15 July 2013

এক জীবনে একটা মানুষ কত কি করতে পারে!!

আমি কয়েক দিন আগে " স্ক্রাচের কর্নেল " বইটা পরছিলাম। রাত ভর ঘুমোতে পারিনি, বার বার মনে হচ্ছিল হোক না হয় বার্থ বিপ্লব তবুও সারাজীবনের সপ্ন সেই বিপ্লব সে করেছে। মনে হচ্ছিল এক জীবনে একটা মানুষ কত কি করতে পারে। কর্নেল তাহের আমার কাছে চে র মত নায়ক হয়ে আছেন মনে হয় আজীবন এই বিপ্লবী বার বার আসে না, তাদের সপ্ন গুলো আমাদের মত ছাপোসা মানুষ দের নারা দিয়ে যায়।

এই কথা গুলো লিখছি সেই প্রেক্ষাপট টা ভিন্ন, যাকে ঘৃনা করেছি সারাটা সময়, গোলাম আজম কে নিয়ে যার বিচারের রায় আজ ঘোষণা হবে। গত রাত থেকে ভাবছি "এক জীবনে একটা মানুষ কত কি করতে পারে!!"

অনেক আগে আমি পরেছিলাম "৭০ থেকে ৯০ বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট "। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গোলাম আজম যখন প্রথম দেশে এসেছিলেন, তখন বায়তুল মোকারম মসজিদে ফজরের নামাজের পর গণপিটুনি খেয়েছিল। আমি দেখেছি সেই লোকটা কোথাও জনসভা করলে লাখ মানুষের জমায়েত। আজ তার বিচারের রায়, সারা দেশে হরতাল স্তব্দ ঢাকা।

আমার ভেতর যেমন চে তাহের বেচে আছে, তেমনি হয়ত লাখ মানুষের ভেতর বেচে থাকবে বিপ্লবী হয়ে, এই বিচার তাদের ভেতর তাদের কাছে প্রহসন। গণহত্যার নায়ক হবে অনেক মানুষের আদর্শের নায়ক।

কেন এই অবস্থা, সুধুই সময় পেছনে ৪২ টা বছর লাখ মানুষের রক্তে কেনা পথে তার অবাধ বিচরণ, আজ তার বিচারের রায় যাই হোক না কেন, আমি কোনো প্রভেদ দেখি না। আজ তার মতাদর্শি অনেক অথচ দেশ স্বাধীন হবার পর সে ইংলান্ডে বসে পাকিস্থান পুনরুদ্ধার করেছে।

এই লোকটা এত অন্যায়ের হোতা হয়েও ভাববে আমি পেরেছি, আমি পেরেছি। আর লাখ মানুষের ভেতর বেচে থাকবে। জানিনা পৃথিবীর কোনো দেশে স্বাধীনতার পর এত প্রহসন হয়ছে কিনা !!!

আমাদের রাষ্ট্রে কত কিছুই যে ঘটছে .... সব সংগ্রহ করলে ভালো কমেডি সিরিয়াল হত

আমাদের রাষ্ট্রে কত কিছুই যে ঘটছে .... সব সংগ্রহ করলে ভালো কমেডি সিরিয়াল হত.. আল্লামা সফির বক্তব্য নিয়ে রাস্তা ঘাট থেকে সংসদ পর্যন্ত গরম হয়ে উঠছে।

আমার দেশে তো যথেষ্ট বাক সাধীনতা আছে, আল্লামা সাহেব তার মত প্রকাশ করছে, সে তো কাওকে জোর করেনি মানতে...

এইদেশে সংসদে আজেবাজে কথা হয়, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কথা হয় ... কোনটারই তো কোনো বিচার হয় নাহ, তো আল্লামা সাহেব কি দোষ করলেন।

আর যারা প্রচার করছেন, আপনি আমি আমরা যারা তার মত নিয়ে একমত না, তারা তো তার ওয়াজ শুনতে যাই না। তাইলে এত ফালাফালি কিসের !!

নাকি সবই রাজনীতির অংশ, অনেক দিন মাঠ গরম ছিল নাহ ...মাঠ গরম করছেন...

এই দেশে সালমান রুশদির বই ওপেন, আর তসলিমা নাসরিন এর বই নিষিদ্ধ হয় ....আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক লাইন তসলিমা না পরে নেগেটিভ মতামত দেন, আবার তারাই সংসদে ফল পারেন ...

Friday, 12 July 2013

আজ প্রথম আলোর একটা খবর দেখে বিস্মিত হয়েছি, যদিও বিস্মিত হওয়ার কিছু ছিল না। "বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের ছেলের জীবন কাটে চায়ের দোকানের পানি টেনে "।

আজ প্রথম আলোর একটা খবর দেখে বিস্মিত হয়েছি, যদিও বিস্মিত হওয়ার কিছু ছিল না। "বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের ছেলের জীবন কাটে চায়ের দোকানের পানি টেনে "।

অথচ এই দেশে সুধের কারবারির ছেলে মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় চাকরি করে, আওয়ামিলিগ কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের ব্যবসা করে। আর একজন সেক্টর কমান্ডারের স্ত্রী ২ বার প্রধানমন্ত্রী ।

এখন আর অবাক হইনা, এখানে অবাক হার কিছু নাই, সব ভুলে যাও ভুলে যাওয়াই নিয়ম। কিছু দিন আগে দেখলাম এক মুক্তিযোদ্ধা নরসুন্দরের কাজ করে, তার ছেলে মেয়েরা দারিদ্রতায় পড়ালেখা হইনি। অথচ এই মুক্তিযোদ্ধা তার ভাতা অন্ধদের দিয়ে দেয়।

না হয় নাই বললাম মন্ত্রীসভায় ...
রুদ্রর কবিতায় বেচে আসে এখনো :
"স্বাধীনতা – একি হবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?"

জানিনা মাঝে মাঝে নিজের ভেতর টা জ্বলে ওঠে, নিমিষেই নিভে যায় ..চাল, ডাল এর খোজে ..

Monday, 6 May 2013

কেন যে মানুষ সভ্য হলো ! অথবা কেন যে মানুষ হয়ে জন্মালাম!!
মানুষ নাকি দিনে দিনে সভ্য হয়েছে, মানুষের ভেতর নাকি পশুত্ব মরে গিয়ে মনুষত্ব জন্মেছে!!

আসলে দিন যাচ্ছে আর মনে হচ্ছে আমরা পশুর চেয়ে খারাপ হচ্ছি, পশু তার খাবার জন্য অন্যকে বিনাশ করছে, কিন্তু আমরা কেন একে অন্যকে ধংশ করছি। এই কথা গুলো শুধু রাজনীতিতে নয় পারিবারিক ভাবেও সত্ব। একবার তাকালেই বোঝা যাই ১% ও একান্নবর্তী সংসার নাই দেশে। যৌবন পার হতেই ভাই ভাইয়ের সম্পর্ক থাকেনা। এইটা শুধু খাবার জন্য নয়, শুধুই অল্প কিছু স্বার্থ এবং মতভেদের জন্য সব সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়।

আর এই ব্যক্তি স্বার্থ এবং মতভেদের আকার রাষ্ট্রীয় জীবনে কি নিয়ে আসছে, লাশ, রক্ত আর ভয় । কিছুদিন আগে আমার এক সহকর্মী হাসান একটা status শেয়ার দিয়েছিল আশার বাণী দিয়ে: " যে দেশে নাস্তিকের রক্ত যায় ধার্মিকের শরীরে, ধার্মিক জীবন বাজি রাখে মানুষ উধ্বারে, সে দেশের ভালো কিছু হবেই "। আসলে সব আশা শেষ হয়, আমি নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ি : এদেশে বিনা অপরাধে বিল্ডিং চাপা পরে, আগুনে পুরে মরে সাধারণ মানুষ, রাজনীতির খেলায় খুব সহজে জীবন দেয় সাধারণ মানুষ (হেফাজতে ইসলাম, পুলিশ, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ)। এই মানুষ গুলো সবারই হয়ত এক মাসের বেতন না পেলে সংসার চলেনা, কারো হয়ত একদিন কাজ না করলেই সংসার চলেনা। আর যারা কলকাঠি নারে তারা থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে।

আজকের এই ধংস এর আগে সরকার কি আলোচনায় বসতে পারত না হেফাজতে ইসলাম সাথে। অথবা হেফাজতে ইসলাম ও কি আলোচনার প্রস্তাবনা করতে পারতনা।! আসলে সবই রাজনীতির খেলা, এইটা হলে তো খেলা জমে না। আপনি হয়ত বলবেন ফালতু কথা, তাই কেমন আলোচনা হতে পারত:

১. সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল করা।

আলোচনা: সৃষ্টিকর্তা সব ভাষা বোঝে, আর ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে আল্লাহ মানে তো অন্য কিছু না সৃষ্টিকর্তা। আমরা ব্রিটিশ আইন কপি করেছি, অতএব আমাদের প্রয়জনে সংশোধন করতেই পারি। মানুষের জীবনের চেয়ে তো সংবিধান বড় নয়।

২+৩. আল্লাহ্‌, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস। কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শান্তিদানের ব্যবস্থা করা।

আলোচনা: পুরনো আইন আছে তবে আরো কঠিন করা যেতে পারে, আর হেফাজতে ইসলাম সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়ে আদালত এ কেইস করতে পারে। পুলিশ এবং সাংবাদিক রা তো নাস্তিক না।

৪. ব্যক্তি ও বাক স্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।

আলোচনা: অনাচার, ব্যভিচার এই বিষয় গুলোতে আরো কঠোর হতে হবে। মোমবাতি প্রজ্বলন বিজাতীয় সংস্কৃতি নয় আমরা পীর, আউলিয়াদের দরবার এবং পুজোয় মোমবাতি, ধুপ আগরবাতি জালানো হয়। মোমবাতি কে সাধারণ মানুষ এতিটাই পবিত্র ভাবে মোমবাতি দিয়ে সিগারেট জালায় না।

বাকি দাবি গুলা ও ভেবে দেখুন, তাহলে কিশের জন্য এই রক্তপাত। সবই রাজনীতির খেলা আর আমরা আমাদের মনুষত্ব হারিয়েছি। ব্যক্তিগত জীবনে, পারিবারিক ভাবে তারই ফল এত রক্ত আর জীবন।