আসলে বয়েসটাই কেমন যেন বিদঘুটে সব নিষিদ্ধ জিনিস গুলো কাছে টানার বয়েস।
পলাশ কেবল স্কুল পেরিয়ে কলেজ এ ভর্তি হয়েছে সাথে তার পুরনো স্কুলের বন্ধুরা কিছু নতুন বন্ধু । সবই আগের মত কেবল নিজেকে মনে হচ্ছে এক লাফে বোধ হয় অনেক বড় হয়ে গেছে। এই তো সেদিনের কথা প্রথম স্কুল পালিয়ে যেদিন সিনেমা দেখতে গিয়েছিল, মনে হয়েছিল এভারেস্ট জয়ের মত এডভেঞ্চার করেছে । অথচ এখন মনে হচ্ছে বাচ্চাদের গল্প।
যখন নবম শ্রেণীতে উঠল প্রথম কয়েক বন্ধু মিলে গোপনে সিগারেট খেল, সেদিন প্রথম গোঁফ না ওঠার জন্য আক্ষেপ হল।ওর অনেক বন্ধুই রাস্তায় সিগারেট খায়, সে খেতে পারেনা সংকোচ আর ভয়ে, তার গোঁফ ওঠেনি কেমন যেন বাচ্চা ছেলেদের মত লাগে।
সিগারেট হাতে রিক্সায় বসে নিজে নিজেই মুচকি হেসে ফেলল। কেমন যেন ওকে আজ চিন্তায় পেয়েছে, গাজা জিনিস টা অর ভালো লাগে না একটা বিদঘুটে গন্ধ আর নিজেকে সামাল দিতে পারে না তবুও কেউ হাত বাড়িয়ে দিলে না করে না, তাই জিতু যখন বলল কিরে বাড়ি দিবি নাকি একটা ও হাত বাড়িয়ে দিল. আজ অবশ্য সাবধানে টান দিয়েছে। তাই নেশাটা জেঁকে ধরেনি একটা হালকা আমেজ, রিক্সায় ফুরফুরে বাতাসে ওকে ভাবনায় পেয়েছে, এত বাঁদরামির ভেতরে ও সবার একটা ভবিষ্যৎ চিন্তা আছে, শুধু ওর নেই অথচ অরি গুছিয়ে ওঠা উচিত, ওর পরিবার ত নিম্ন মধ্যবিত্ত। অথচ ওর মধ্যে সব আজব চিন্তা ওর হুমায়ুন আহমেদের কবি হতে ইচ্ছে হয়, চোখের সামনে যেন দেখতে পায় নদীর ধার জোসনায় ছেয়ে গেছে। হুমায়ুন মাহমেদের গল্পের কবিদের মত কোনও সুন্দরীর হাত ধরে ফিরবে না, ইচ্ছে হয় নাহ কখনোই প্রকৃতির কাছ থেকে ফিরতে ইচ্ছা হয়না।
পলাশের মনে হয় পৃথিবীতে তার মত স্বাধীন মানুষ কেউ নেই, সারাদিন সে রাজার মত মা গ্রামে থাকে বাবা আর তার দুই জনের ব্যাচেলর সংসার, সন্ধ্যা হবার আগে তার কোনও ঘরের ফেরার টান অনুভব করে না।
কলেজ জীবন টা যে এত অদ্ভুত কখনই ভাবেনি, অনেক ছাত্রদের ভীরেও ওদের গ্রুপ টার একটা আলাদা ভাব তৈরি হয়েছে। ছাত্রনেতারা বেশ পাত্তা দেয় আসলে সব গুলি এক একটা বিচ্ছু। হঠাৎ করে সেদিন হাসি ঠাট্টার ভেতর এক অদ্ভুত একটা ব্যাপার ঘটে গেল সবার পারিবারিক নাম গুলে গেল ঘুচে, নতুন নাম গুলো ও সব অদ্ভুত, একজনের নাম হোলা, মাথামোটা, হরি ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে যে নামটা সবাইকে ছাপিয়ে গেল তার নামটা পাছায় ঘা। বাংলা অধ্যাপিকার ক্লাস হচ্ছে, দুই বেঞ্চ পেছন থেকে ফিসফিস করে ডাকা হচ্ছে এই পাছায় ঘা, এই পাছায় ঘা, যাকে ডাকা হচ্ছে সে আর সহ্য করতে পারল না দাড়িয়ে উঠে বলল ম্যাডাম আমি আর ক্লাস করব না পেছন থেকে পাছায় ঘা ডাকছে। ম্যাডাম মুচকি হেসে বলল এই তোমরা আর পাছায় ঘা ডে-কোনা। আর ক্লাসের সব হেসে উঠলো। কিছুক্ষণ গেল আবার সেই ডাক অবশেষে সে গত গত করে ক্লাস থেকে বের হয়ে গেল আবার ক্লাস ভরে হাসির শব্দ। তার পর দুই দিন এই বিটকেলে গ্রুপ এর আড্ডায় তার কাছে ঘেঁসতে পারেনি পলাশ বোধ হয় বোঝাতে গিয়ে ২ ঘা খেয়েছিল।
No comments:
Post a Comment